পিরোজপুর: ঈদকে ঘিরে মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও ভিন্ন চিত্র পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুরা ইউনিয়নের টিকিকাটা গ্রামের মো. নাসির খাঁন ও শিউলি বেগমের পরিবারে।
তাদের পরিবারেও চলছিল ঈদের প্রস্তুতি। হঠাৎ সব শেষ হয়ে গেল। ঈদের উচ্ছ্বাস যেন রূপ নিল বিষাদে। সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এই দম্পতি তিন ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায়। তিন ছেলে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের সোনারবাংলা এলাকার পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া সড়কে বন্ধুর জন্য আনা ঈদের পোশাক দিতে গিয়ে রাজিব পরিবহনের একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হন তিন ভাই মো. নাঈমুজ্জামান শুভ (২২), মো. শান্ত (১৪) ও মো. নাদিম (৮)।
[246885]
চার সন্তানের বাবা নাসির খাঁন ও মা শিউলি বেগম দুই বছরের ব্যবধানে চার সন্তানের সবাইকেই হারিয়েছেন। দুই বছর আগে পানিতে ডুবে মারা যায় তাদের ছোট ছেলে মো. হাসান।
ঈদের আগে একসঙ্গে ৩ ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা মা-বাবা। স্বজনদের ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়ার পথেই নিহত হন সেই তিন ভাই। রোববার (৩০ মার্চ) বিকেলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় নিহত তিন ছেলের বাবা মো. নাসির খাঁনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ঈদের প্রস্তুতি তো ছিল। কিন্তু এখন আর কীসের ঈদ। আমাদের তো সব শেষ হয়ে গেছে। বড় ছেলে শুভ ঢাকাতেই চাকরি করতো। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্যই বাড়ি এসেছিল। ঈদ তো আর করা হলো না আমার সন্তানের। বন্ধুর বাড়িতে ঈদের জামা পৌঁছে দিতে গিয়ে আর ফিরে আসল না আমার ছেলেরা। আমার তো সবগুলো ছেলেই চলে গেল। আমার তো সব শেষ হয়ে গেল।
নিহতদের মা শিউলি বেগম বলেন, আমাগো এখন আবার কীসের ঈদ। আমাগো ঈদ তো করতো আমার বাবারা। তারাই নাই এখন ঈদ দিয়ে কী হবে।
এআর