• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩০

ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিএনপি নেতার হামলায় ক্যামেরা ভাংচুর 


লালমনিরহাট প্রতিনিধি মার্চ ১, ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম
ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিএনপি নেতার হামলায় ক্যামেরা ভাংচুর 

লালমনিরহাট: আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভিডিও ধারণ করায় ইউপি সদস্যের হামলায় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি মাহফুজ ইসলাম বকুলসহ যুবদল ও ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। 

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (২৮ ফেরুয়ারি) রাতে আদিতমারী থানায় পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক থানায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্যসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে ঘটনারদিন রাতেই মহিষখোচা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি অহেদুজ্জামান আবীর আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যান্য আহতরা হলেন, মহিষখোচা ইউনিয়ন যুবলের সহ-সভাপতি সুমন মিয়া (৩৫), সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন নবী জুয়েল (৩৭), মহিষখোচা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মমিন (২৬), যুবদল সদস্য নুর আলম (৩২)।  

অভিযুক্ত মহিষখোঁচা ইউপি সদস্য আবু তালেব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মিয়ার নির্দেশে বালু উত্তোলন ও  হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

জানা গেছে, মহিষখোঁচা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান আবিরসহ যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতারা তিস্তা নদী থেকে মধ্যরাতে বালু উত্তোলন করে বিক্রির খবর পেয়ে চন্ডিমারী গ্রামে যান। 

এই খবর জানতে পেরে সাংবাদিক মাহফুজুল ইসলাম বকুলও সেখানে যান। তিনি রাতের আঁধারে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাক যোগে সরিয়ে নেওয়ার ভিডিও ধারন করেন। 

এসময় ইউপি সদস্য আবু তালেব ও তার লোকজন তাকে গালিগালাজ করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করে। এসময় হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেলসহ চারটি মোটরসাইকেল  ভাঙচুর করে এবং ওই সাংবাদিকের ক্যামেরা, মাইক্রোফোনসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

সাংবাদিক মাহফুজুল ইসলাম বকুল বলেন, মহিষখোঁচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদে তিস্তা নদী থেকে প্রতিদিন রাতের আঁধারে তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন ইউপি সদস্য আবু তালেব ও তার লোকজন। 

স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনও রীতিমতো অভিযান চালাচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমি সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা হামলা চালিয়ে ক্যামেরা, মোটরসাইকেল ও ব্যাগে থাকা অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

এ বিষয়ে মহিষখোঁচা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাঁধা দিতে গিয়ে দলের নেতা-কর্মীসহ সাংবাদিকের উপর যাদের প্রত্যক্ষ মদদে হামলা হয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিষখোঁচা এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিস্তার বালু উত্তোলন করে একাধিক মানুষ যেমন রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরেকটি দলের নেতারাও ঠিক একই কাজ করে যাচ্ছেন।

হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবু তালেব আবু সাংবাদিকদের বলেন, মহিষখোঁচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির নির্দেশে আমি বালু তুলেছি। তবে আমি কাউকে হামলা করিনি। লেবারদের সাথে কি হয়েছে জানিনা।

তবে মুঠোফোনে কথা হলে মহিষখোঁচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মিয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মহিষখোঁচা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের দলের সভাপতি দুলালসহ দলের কতিপয় নেতারা এই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে অবগত করেছি।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আকবর বলেন, সাংবাদিকের ওপর এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআর

Wordbridge School
Link copied!