• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩০
চট্টগ্রামে জোড়া খুন

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


চট্টগ্রাম ব্যুরো এপ্রিল ২, ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম
শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরে গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া জোড়া খুনের ঘটনায় তিন দিন পর সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ হোসেন ও তার স্ত্রীসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত বখতিয়ার হোসেন মানিকের মা ফিরোজা বেগম। 

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরের বাকলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় সাজ্জাদ, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, মো. হাছান, মোবারক হোসেন ইমন, খোরশেদ, রায়হান ও বোরহানকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, সারোয়ার হোসেন বাবলা নামক ব্যক্তির গাড়ির চালক ছিলেন নিহত মানিক। সারোয়ারের ব্যক্তিগত কাজকর্ম করতেন নিহত আবদুল্লাহ। ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে নতুন ব্রিজ এলাকায় আড্ডা দেওয়ার পর মানিক, সারোয়ার, আবদুল্লাহ, রবিন, হৃদয় ও ইমন তাদের প্রাইভেট কারে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ২টার দিকে রাজাখালী ব্রিজে পৌঁছালে ৬-৭টি মোটরসাইকেল থেকে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যার ফলে গাড়ির পেছনের গ্লাস ছিদ্র হয়ে যায়। এরপর মানিক তার গাড়ি নিয়ে বহদ্দারহাটের পরিবর্তে চকবাজারের দিকে চলে যান। রাত সোয়া ২টার দিকে চকবাজার থানার নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কে মানিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গাড়ি থামান। তখন গাড়ির পেছনে থাকা হাছান, ইমন, বোরহান, খোরশেদ ও রায়হানসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জন তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিতে মানিক ও আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়। 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি সাজ্জাদ এবং তার স্ত্রী তামান্নার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সারোয়ার হোসেন বাবলা ও তার ছেলেসহ অন্যান্যদের হত্যা করার জন্য নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে প্রাইভেটকারটির পিছু নেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সাজ্জাদ ও সারোয়ারের মধ্যে পূর্বপরিচিত দ্বন্দ্ব ছিল এবং সম্প্রতি সাজ্জাদের গ্রেপ্তার এবং এলাকার আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা বেড়েছিল। এই কারণে সাজ্জাদ ও তার লোকজন সারোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালাতে পারে।

সন্ত্রাসী সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে ১৫টি মামলা রয়েছে। সাজ্জাদ হোসেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার হাটহাজারী শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে। ছোট সাজ্জাদ চট্টগ্রামে আলোচিত এইট মার্ডার মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি 'জামায়াত-শিবির ক্যাডার' হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী। গত ১৫ মার্চ, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। তিনি দুই মামলায় ১৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।

চট্টগ্রামের অপর এক শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার হোসেন বাবলা বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকার পাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে। তার বিরুদ্ধেও ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৮টি মামলা রয়েছে, তবে সবগুলো মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!