Menu
রাজশাহী: বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঈদুল ফিতরের দিন এবং পরের দিন দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গত সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন সকালে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বৃদ্ধি পায় এবং ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার
বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নগরীর বিনোদন পার্কসহ দর্শনীয় স্থানগুলো। ঈদের দুইদিন পর বুধবারও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় ছিল। তবে বিনোদন পার্কে প্রবেশ টিকিট ও বিভিন্ন রাইডে উঠা টিকিটের মূল্য দ্বিগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এতে বিনোদন পার্কে ঘুড়তে আসা দর্শনার্থীরা চরম বেকায়দায় পড়েন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষরা বছরের দুই ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে পার্কে আসেন। ফলে তাদের আয় কম হওয়ায় এই খাতে বাজেট কম থাকে। নিম্ন আয়ের মানুষরা উচ্চ মূল্যে টিকিট কিনে বাচ্চাদের পুরোপুরি আনন্দ দিতে পারছেন না। বিনোদন কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন রাইডে বাচ্চাদের চড়াতে পারছেন না। এতে মন কষ্ট নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজশাহী শহীদ জিয়া শিশু পার্কে সরেজমিনে ঘুরে এবং দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহীদ জিয়া শিশু পার্কে প্রবেশ মূল্য প্রতিজন ৩০ টাকা। এই পার্কের ভিতরে প্রতিটি রাইডে আলাদা টিকিট মূল্যে রয়েছে।
প্রতিটি রাইডের প্রবেশ মূল্যে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ফলে পার্কে প্রবেশ করে বাচ্চাদের শখ পূরণ করতে কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে বিনোদন কেন্দ্রে আসতে পরিবহণ বাবাদ আরো ৫০০ টাকা ব্যয় হয়। যা একজন নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব না। ফলে দর্শনার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
রাজশাহীর শহীদ জিয়া শিশুপার্ক, বড়কুঠি পদ্মার পাড়, সীমান্ত নোঙর, ভদ্রা শিশুপার্ক, রাজশাহী চিড়িয়াখানা ও কেন্দ্রীয় উদ্যানসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের একইরকম ক্ষোভ দেখা গেছে। তবে রাজশাহী পদ্মাপাড়ে মুক্তস্থানে কোন টিকিট না থাকায় সেখানে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
পদ্মাপাড়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন লিমান ও তানভীর। লিমান জানান, ঈদের নামাজ শেষে বাসায় মিষ্টান্ন খেয়েই তারা এখানে ঘুরতে এসেছেন। তাদের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, “নিজেদের ব্যস্ততার কারণে বাচ্চাদের তেমন সময় দেওয়া হয় না, তাই ঈদের দিনে তাদের নিয়ে বের হয়েছি।”
নগরীর টিকাপাড়া থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন লাবনী ইসলাম। তিনি বলেন, “এবারের ঈদটা একটু অন্যরকম। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকি, তবে এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারছি। দুপুরে সবাইকে নিয়ে বের হয়েছি, বাচ্চারা খুব আনন্দ করছে। ঈদের আনন্দটা সবাই মিলে উপভোগ করছি।”
এদিকে, ঈদ উপলক্ষে নগরীতে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার চালকরা যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যা যাত্রীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
রিকশাচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের দিন বাচ্চাদের বিনোদন দিতে জিয়া পার্কে এসেছি। এখানে এসেই বিপদে পড়ে যাই। কারণ প্রতি টিকিট মূল্যে অনেক বেশি। তাই বাচ্চাদের রাইডে না উঠিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তিনি ঈদের দিন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে টিকিট মূল্যে কমানোর দাবি জানান।
এনামুল হক নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “এবার ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়নি। রাজশাহীতেই আছি, ঈদের দিন বিনোদনকেন্দ্রে সময় কাটাচ্ছি। তবে বিনোদন কেন্দ্রে টিকিট মূল্যে বেশি, রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা বেশি ভাড়া চাচ্ছেন, যা ভোগান্তির কারণ হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে এই সিন্ডিকেট গুলো ভেঙে ফেলা দরকার বলে জানান তিনি
এআর
© 2025 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সোনালীনিউজ.কম
Powered By: Sonali IT