• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩০

ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক এপ্রিল ১, ২০২৫, ১০:০৩ এএম
ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান

ঢাকা : পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এদিকে, ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যদি তারা কোনো চুক্তি না করে, তাহলে বোমাবর্ষণ হবে। এমন বোমাবর্ষণ হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি তারা চুক্তি না করে, তাহলে আমি আগের মতোই তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।’

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের চিঠির জবাবে তেহরান ওমানের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ চাপ ও সামরিক হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাবে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান পরোক্ষ আলোচনায় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, রুশ ও ইরানি পণ্যের ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। তিনি ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন।

পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে যে ইরান উচ্চমাত্রার বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে তেহরান দাবি করছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে তাদের শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দুই মাসের মধ্যে চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দিচ্ছে। এর মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং জানিয়েছে, যেকোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সবসময় ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা করে আসছে। তারা আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে, তবে যদি তারা কোনো দুষ্কর্ম করে, তবে শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুসারে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিপন্থী।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহিংসতা সহিংসতা ডেকে আনে, শান্তি শান্তি সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তার পরিণতি মেনে নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ওই চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!