গভর্নর মালেক ও তার মন্ত্রিপরিষদের পদত্যাগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২১, ১০:১৬ এএম
গভর্নর মালেক ও তার মন্ত্রিপরিষদের পদত্যাগ

ঢাকা : ১৯৭১-- এর ১৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো পত্রে গভর্নর এ এম মালেক এবং তার মন্ত্রিপরিষদ পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগপত্রটি অনূদিত হলো :  ‘দেশকে অধিকতর রক্তপাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা গভর্নরের পদ এবং গভর্নরের পরিষদে মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলাম; এই পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। আমরা সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।

স্বাক্ষর : এ এম মালেক, আবুল কাশেম, এ এস এম সোলায়মান, নওয়াযেশ আহমদ, এ আহমদ, এম ইউসুফ, মো. ইসহাক, মুজিবুর রহমান, জসিমুদ্দিন আহমেদ, মো. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, এ কে মোশাররফ হোসেন, আব্বাস আলী খান।’

১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান হানাদারমুক্ত হয়। পাকসেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বগুড়া পৌর এডওয়ার্ড পার্কে ওড়ে বিজয়ের পতাকা। এর আগে হানাদার বাহিনী বগুড়া শহরের দখল নিতে ভাফর অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কয়েক দফা আক্রমণ চালায়। কিন্তু মুক্তিসেনারা বীরত্বের সঙ্গে ওই আক্রমণ প্রতিহত করেন।

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তান হানাদারদের হটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে শত শত মুক্তিযোদ্ধা ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটের ডাকবাংলোতে প্রবেশ করেন। পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা তখন পালিয়ে বগুড়া ও ঘোড়াঘাটের দিকে ছুটে যায় জীবন বাঁচাতে। জয়পুরহাটের ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে প্রথম স্বাধীনতার বিজয় কেতন সোনালি বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খন্দকার আসাদুজ্জামান বাবলু (বাঘা বাবলু)। এদিন মুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সমবেত করার জন্য সিরাজগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন ভুলু ও আমিনুল ইসলাম চৌধুরী (মুজিব বাহিনীর গেরিলা) উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পাকিস্তাফন হানাদারবাহিনী রেলযোগে ঈশ্বরদী অভিমুখে পালিয়ে যায়। ১৪ ডিসেম্বর ভোরে হাজার হাজার জনতা ও বিজয়ী মুক্তিবাহিনী জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে সিরাজগঞ্জ শহর দখল করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নাস্তানাবুদ হয়ে টাঙ্গাইল থেকে বিতাড়িত হয়ে ঢাকার পথে জিরাবো এলাকার ঘোষবাগ গ্রামের এসে পৌঁছলে ঝাঁপিয়ে পড়ে অ্যামবুশ পেতে থাকা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর গেরিলা বাহিনী। উচ্ছ¡সিত কিশোর টিটু সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে গুলি করতে করতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন। হঠাৎ একঝাঁক তপ্ত বুলেটের আঘাত ঝাঁজরা করে দেয় কিশোর প্রাণটিকে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা দশম শ্রেণির ছাত্র গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটুর রক্তে মুক্ত হয় সাভার।

এদিন ভোর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পলায়নপর হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে চলতে থাকে মরণপণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। রুপসদী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পলায়নপর পাকিস্তানি সৈন্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে করতে এগিয়ে যায়। পাকিস্তানিরাও এমএমজি (মিডিয়াম মেশিন গান) দিয়ে ননস্টপ পাল্টা ফায়ার করতে করতে পিছু হাঁটে।

পলায়নপর পাকিস্তানি সৈন্যরা ধাওয়া খেয়ে তাদের কাছে থাকা একটি ছোট লঞ্চ দিয়ে তিতাস নদী পেরিয়ে তিতাসের পার ঘেঁষে ঘাগুটিয়া গ্রামে একটি বড় পাকা মসজিদে শক্ত অবস্থান নেয়। তখনো পাকিস্তানি সৈন্যদের অনেকেই নদী অতিক্রম করতে পারেনি। তিতাস নদী অতিক্রমের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে বেশকিছু পাকিস্তানি সৈন্য মারা যায় ও আহত হয়। কিছু সৈন্য তিতাস নদীতে ডুবে মরে।

এদিন মিত্র-মুক্তিবাহিনী বিজয়ীরবেশে চারদিক থেকে ঢাকার দিকে এগিয়ে আসে। যৌথ বাহিনী তথা ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মানেকশ বিভিন্ন ভাষায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের বাণী লিফলেট করে আকাশে ছড়িয়ে দেন। ১৪ ডিসেম্বর বিকেলে ভারতীয় মিগ-২১ জঙ্গি বিমান কোনো ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ঢাকার নীলাকাশে উড়তে থাকে। প্রচারপত্রে পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তারা আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী তাদের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ।

১৯৭১ সালের এই দিনে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল জাতির সূর্য সন্তানদের। তারা হলেন-

১. ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব: জি.সি. দেব ১৯০৭ সালের ১ ফেব্রæয়ারি তদানিন্তন ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের পঞ্চখণ্ড পরগনার (বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা) গ্রাম লাউতাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি  কলকাতা রিপন কলেজে শিক্ষক হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫৩ সালের জুলাইয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়্যায়ম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৭ সালে প্রফেসর পদে পদান্নতি লাভ করেন।

ড. দেব তার জীবন ঘনিষ্ঠ মানবিক দর্শন প্রচারের জন্য সমস্ত সম্পত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে গেছেন যা দ্বারা পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন কেন্দ্র (উঈচঝ) প্রতিষ্ঠিত হয়। পালিত কন্যা রোকেয়া বেগম তার স্বামীকে নিয়ে ড. দেবের বাসায় থাকতেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে সারারাত ধরেই ড. দেবের বাড়িতে গুলিবর্ষণ হয়েছে। ভোরের দিকে তিনি তার মেয়েকে বললেন, মা তুমি একটু চা কর। আমি ততক্ষণে ভগবানের একটু নাম করি। এ সময় দরজা ভেঙে পাকিস্তানি সেনারা ঘরে প্রবেশ করে। সেনাসদস্যরা ব্রাশ ফায়ার করে গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও রোকেয়া বেগমের স্বামীকে হত্যা করে।

২. ড. আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী: ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স এবং মাস্টার্স পাস করেন। ১৯৪৯ সালে মুনীর চৌধুরী খুলনার ব্রজলাল কলেজে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।  ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে এবং সে বছরই আগস্ট মাসে ইংরেজির অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের সহযোগী আল-বদর বাহিনী তার বাবার বাড়ি থেকে অপহরণ করে ও সম্ভবত ওদিনই তাকে হত্যা করে।   

৩. ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী: বর্তমান বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ববঙ্গের) নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  ১৯৫০ সালে জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক পদে যোগ দেন। তিনি এসময় সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজ (বর্তমান নটর  ডেম কলেজ)-এও খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আল-বদর বাহিনী তাকে তার কনিষ্ঠ ভাই লুতফুল হায়দার চৌধুরীর বাসা থেকে অপহরণ করে। এর পর তার আর কোন খবর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয় ওই দিনই তাকে হত্যা করা হয়েছে।   
 
৪. ড. আবুল খায়ের: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি অপহৃত ও পরে শহীদ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা ফুলার রোডের ৩৫/বি নম্বর বাসা থেকে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে তাকে অপহরণ করা হয়। এর পর তাকে হত্যা করা হয়।

৫. ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা: জন্ম তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের (বর্তমানের বাংলাদেশ) ময়মনসিংহ জেলায়। জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এমএ পাস করার পরপরই  ১৯৪৩ সালে গুরুদয়াল কলেজে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের লেকচারার পদে নিয়োজিত ছিলেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষক হিসেবে ফেলোশিপ নিয়ে তিনি লন্ডন গমন করেন এবং ১৯৬৭ সালে লন্ডন কিংস কলেজ থেকে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার পদে উন্নীত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার সময় তিনি ঢাবির জগন্নাথ হলে আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন। সেদিন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা গুলিবিদ্ধ ও আহত হন, এবং চারদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৬. রাশীদুল হাসান: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষতা করেছেন। রাশীদুল হাসানের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বড়শিজা গ্রামে। তার শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় নরসিংদী কলেজে। এক বছর সেখানে শিক্ষকতা করার পর তিনি চলে যান পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে। সেখানেও প্রায় তিন বছর শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

১৯৫৭ সালে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানকার কৃষ্ণচন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তার জীবনের সর্বশেষ কর্মক্ষেত্র ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় সহযোগীরা তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই অপর শিক্ষক আনোয়ার পাশার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। ২২ দিন পর অন্য বুদ্ধিজীবীদের লাশের সঙ্গে তার লাশ রায়েরবাজার বদ্ধভূমিতে পাওয়া যায়।

৭. অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য: তিনি সিলেটের নবীগঞ্জের জান্তারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে নবীগঞ্জ জেকে হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক এবং ১৯৬৩ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি, অনার্স এবং ১৯৬৭ সালে ফলিত পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিজ্ঞানের লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে জগন্নাথ হলের হাউস টিউটর হন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলিতে নিহত হন।

৮. সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য: ১৯১৫ সালের ৩০ আগষ্ট তিনি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক  ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজে লেকচারার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং সেখানে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুপুরবেলা মাইক্রোবাস নিয়ে কয়েকজন ছাত্র এসে সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্যকে চোখ বেঁধে বর্তমান মীরপুর শহীদ মিনারে নিয়ে  হত্যা করে।     

৯. গিয়াসউদ্দিন আহমদ:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র লেকচারার, মহসিন  হলের হাউস টিউটর, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন। তিনি নরসিংদীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের অংশ হিসেবে তিনি অপহৃত ও পরে শহীদ হন।         

১০. সিরাজুল হক খান: তিনি ১৯২৪ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের অংশ হিসাবে তিনি অপহৃত ও পরে শহীদ হন।

এদিন পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছ থেকে প্রচুর গুলিসহ (চেইনের মধ্যে সেট করা) পাকা জলপাই রঙের একটি এমএমজি উদ্ধার করে মুক্তিযোদ্ধারা। প্রচণ্ড গোলাগুলিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বাঞ্ছারামপুর-হোমনার বিরাট এলাকা, কেঁপে কেঁপে ওঠে শান্তশিষ্ট কাজলকালো তিতাস নদীর জল। ১৪ তারিখে যুদ্ধের মধ্যেই উজানচর গ্রামের এক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে একটি পাকিস্তানি সৈন্যের লাশ নিয়ে যায়। পরে ওই লাশকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে মনের আক্রোশ মেটায় নারীরা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Link copied!