ঢাকা : যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করেছেন।
ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন, যা ইসলামের সাম্যের মহান আদর্শকে তুলে ধরে। ঈদুল ফিতর শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার অনন্য উপলক্ষ।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত : রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করেন এবং মোকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করেন মুয়াজ্জিন ক্বারী মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ হাজারো মানুষ এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন। একইভাবে ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা বার্তা : প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করুন এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করুন।’ তিনি আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার ঈদ আনন্দ : ঈদ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এই শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন।
এছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঈদের জামাতের আয়োজন করে। জামাত শেষে ঈদ আনন্দ মিছিল বের করা হয়, যা সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শাহী ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, ব্যান্ড পার্টি ও ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলা এই মিছিলে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এতে অংশগ্রহণ করেন, যা ঢাকার ৪০০ বছরের ঈদ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দমেলা : সংসদ ভবনের সামনে ঈদ আনন্দ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাউলশিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়।
এছাড়া, ডিএনসিসি দুই দিনব্যাপী ঈদ আনন্দমেলার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিতব্য এ মেলায় ২০০টির বেশি স্টল থাকবে, যেখানে উদ্যোক্তারা বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করবেন। মেলা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এবং শিশুদের জন্য থাকছে নানা বিনোদনের ব্যবস্থা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর সকলের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি—এই কামনাই সকলের।
এমটিআই
আপনার মতামত লিখুন :