ঢাকা : বাংলাদেশের সাথে ভারতীয় ব্যবসায়ীক গোষ্ঠী আদানির পাওয়ারের ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুতের চুক্তি পর্যালোচনার কোনো ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছে আদানি। যদিও একদিন আগে রোববার বাংলাদেশ চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন করতে চায় এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদানির এ মন্তব্য পাওয়া গেল।
এর আগে রোববার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছিল, বাংলাদেশ আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তির অধীনে বিদ্যুৎ ক্রয়ের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে চায়। অন্যথায়, আদালত চুক্তিটি বাতিল করতে পারে, কারণ আদালত এরই মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
তার একদিন পরই সোমবার আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পুনর্মূল্যায়ন করছে-এমন কোনো ইঙ্গিত তারা পায়নি। খবর রয়টার্স।
এদিকে রয়টার্স আরও জানিয়েছে যে, আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎক্রয় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে বাংলাদেশ।
আদানি গ্রুপের কাছে বিদ্যুৎ ক্রয়বাবদ বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ জমেছে বাংলাদেশের। এ কারণে গত ৩১ অক্টোবর থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল আদানি গ্রুপ। ধারণা করা হচ্ছে, বকেয়া অর্থের বোঝা আরও না বাড়ানোর জন্যই এ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
এদিকে, আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন আদালত ভারতে ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে। এমনকি ভারতের একটি রাজ্যের সরকারও আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা করছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের টোটাল এনার্জি আদানি গোষ্ঠীতে বিনিয়োগ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
যদিও গৌতম আদানি মার্কিন আদালতের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।
বাংলাদেশে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ চুক্তিটি ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার করেছিল। শেখ হাসিনাকে এ বছর আলোচিত গণঅভ্যুত্থান ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।
এমটিআই