Menu
প্রশ্ন : আমি আমার সব সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে দিতে চাই, যাতে আমার মৃত্যুর পর ছেলে-মেয়ে কেউ ভোগ করতে না পারে। অর্থাৎ ওই সম্পত্তির পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে আমার স্ত্রীর কাছে। সে যাকে ইচ্ছা তাকে দিতে পারবে। এটি করা কি আমার জন্য শরিয়তসম্মত হবে?
ইবরাহিম মাবরুর, মাইজদী, নোয়াখালী
উত্তর : জীবিত অবস্থায় অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট ওয়ারিশের নামে সব সম্পত্তি লিখে দেওয়া শরিয়তপরিপন্থী এবং গুনাহর কাজ। সুতরাং আপনার জন্য সব সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়া বৈধ হবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৭০৩; হিন্দিয়া : ৪/৩৯১; ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৮১)।
সম্ভাব্য কোনো ওয়ারিসকে বঞ্চিত করে সমুদয় সম্পত্তি কাউকে দিয়ে দেওয়া অবৈধ। সন্তানরা বাবার খোঁজ না নেওয়া ও তাকে না মানা অন্যায়। কিন্তু এ কারণে তাদেরকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে দেওয়া যাবে না।
সন্তানদের কর্তব্য, পিতামাতার দেখাশোনা করা ও খোঁজ-খবর রাখা এবং তাদের অবাধ্য না হওয়া। পিতামাতার অবাধ্যতাকে হাদীসে কবীরা গুনাহ বলা হয়েছে। হযরত আবু বাকরাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- ‘আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহের কথা বলে দিব না? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই (বলে দিন)। বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া…।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৭৬)
উল্লেখ্য, মীরাস হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার মৃত্যুপরবর্তী সম্পদ বণ্টনের পদ্ধতি। বান্দার উচিত এতে নিজ থেকে হস্তক্ষেপ না করা এবং এমন কিছু না করা, যাতে তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী পুরোপুরি বঞ্চিত হয়ে যায়। অবশ্য কখনো কোনো সন্তানের ফাসেকি বা অবাধ্যতা চরম পর্যায়ে চলে গেলে সেক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বে ভুক্তভোগী নিজে কোনো ফতোয়া বিভাগে গিয়ে অবস্থা বর্ণনা করে তাদের মাসআলা অনুযায়ী আমল করবে। (সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩১৬৮৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৩৭)
সোনালীনিউজ/এইচএন
© 2025 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সোনালীনিউজ.কম
Powered By: Sonali IT